বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English हिन्दी

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
দ্রুত উন্নয়নের দিকে ধাবিত দেশটি উল্টো দ্রুত গতিতে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে
অশ্রু হাসি
Publish: Wednesday, 16 September, 2026, 1:51 AM


উন্নতির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া বাংলাদেশ তরতর করে সুনামের সহিত বিশ্বমঞ্চে উদীয়মান হয়েছিল। মাত্র ১৫ বছরে দারিদ্র্যতা দূর করে পৃথিবীতে মর্যাদার স্থান দখল করে বাংলাদেশ। তাই সে সময় বিশ্ব সম্প্রদায়ের অনেকে বিভিন্ন দরিদ্র দেশকে দারিদ্র্যতা দূর ও শান্তিপূর্ণ বসবাসের জন্য বাংলাদেশকে অনুকরণ করার কথা বলতেন।
যে বাংলাদেশে ২০০৮ সনে অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ ও দরিদ্র প্রায় ৪০.১ শতাংশ, মাথাপিছু আয় ৬৫৮ ডলার, জিডিপি মাত্র ৯১.৬০ বিলিয়ন ডলার, শিক্ষার হার ৪৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী ১৫ শতাংশ। এই রকম নাজুক অবস্থায় ২০০৮-২০০৯ সনে দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর সাহসের সহিত বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের পরিকল্পনা করে।
সে অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ন্যূনতম ১,৩০৬ ডলারের উপর উন্নীত করতে হবে। কিন্তু দিবা-রাত্রি অত্যন্ত আন্তরিকতার সহিত কাজ করায় মাথাপিছু আয় ২০২১ সনে ২,৮২৪ ডলারে দাঁড়ায়।
একইভাবে শেখ হাসিনার সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ২০৩১ সনের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে হওয়ার জন্য মাথাপিছু আয় ৪৬৩৬ ডলারের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ১৪,০০০ ডলারের ওপরে মাথাপিছু আয় অর্জনের মাধ্যমে উন্নত দেশের পৌঁছার জন্য দ্রুত অগ্রসর হতে থাকেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা পূর্বাভাস করছে যে, গতিতে বাংলাদেশ এগাচ্ছে তাতে ২০২৮ সনের মধ্যে উচ্চ-মধ্য আয়ের এবং ২০৩৪ সনের ভিতর বাংলাদেশ পৃথিবীর উন্নত দেশের কাতারে স্থান করে নিবে।


যেহেতু বিদ্যুৎ যে কোনো দেশের উন্নয়নের একটি মৌলিক উপাদান। তাই ব্যাপক বিদ্যুৎ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয় ২০৪১ সনের জন্য ৬০০০০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে জ্বালানির প্রয়োজন এবং একক জ্বালানি দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানিকৃত এলএনজি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রতিবেশী দেশ থেকে সুবিধাজনক স্থান ও দরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল আমদানির ব্যবস্থা করা হয়। একইভাবে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সমুদ্র থেকে জ্বালানি সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে সমুদ্রসীমাকে বিভিন্ন ব্লকে বিভক্ত করা হয়। সমুদ্র থেকে খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য মাল্টি-ক্লায়েন্ট সিসমিক (Multi-Client Seismic Data) জরিপের জন্য দরপত্র আহ্বানসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে নির্বাচনের পূর্বে মার্কিন কোম্পানি ইউনোকল (Unocal) তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট ভারতে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দেয়। শেখ হাসিনার সরকার সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি। তিনি তখন দেশের শীর্ষস্থানীয় ভূতত্ত্ববিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন; যাদের নিরপেক্ষ রিপোর্ট অনুযায়ী-বাংলাদেশে রপ্তানি করার মতো কোনো অতিরিক্ত গ্যাস মজুদ নেই।
কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির ঘোষণা দেন। তখনকার সময়ে বিএনপির অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান বলেছিলেন, "মাটির নীচে সোনা রেখে লাভ কি?" তারা ক্ষমতায় গেলে গ্যাস রপ্তানি করতে রাজি।
যেহেতু ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল, তাই শেখ হাসিনাকে রাজি করানোর জন্য তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ঢাকা সফর করেন। তখন শেখ হাসিনা বিল ক্লিনটনের প্রস্তাবে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য আগামী ৫০ বছরের গ্যাসের মজুদ নিশ্চিত করে, তার অতিরিক্ত গ্যাস তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী ভারতে রপ্তানিতে সম্মত আছেন। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সন্তুষ্ট হননি।
কথিত আছে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত ক্ষুব্ধ হয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে উভয় দেশ মিলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেয়নি।
২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন বিদ্যুৎ খাতসহ অন্যান্য খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঐ সময় বিদ্যুৎ, সার, খাদ্য ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। কৃষি, শিল্প, বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত বিদ্যুতের অভাবে নাজুক অবস্থায় পড়ে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর দেশে মারাত্মক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কোনো বিকল্প ছিল না। প্রচলিত নিয়মের সরকারি/বেসরকারি খাতে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৩/৪ বছর সময় লাগবে। তখন সরকারের কাছে সময়ও নাই, টাকাও নাই।
তাই নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতি কুইক রেন্টাল অর্থাৎ সরকারের টাকা লাগবে না। ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের টাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করে। যে কারণে দেশ রক্ষা পায় ও মানুষ চরম অবস্থা থেকে উদ্ধার হয়েছিল।
অন্যদিকে, দেশীয় গ্যাসকূপগুলো থেকে সম্ভব অধিক গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থা করে। একইভাবে দ্রুত গ্যাস সমস্যা সমাধানের জন্য LNG Terminal নির্মাণ করে। এলএনজি (LNG) টার্মিনাল স্থাপন করে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয় যাতে শিল্পের জন্য, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও গৃহস্থালি খাত যেন গ্যাসের ঘাটতি না হয়।
সে অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ভাসমান FSRU-এর মাধ্যমে গ্যাস আমদানি করে দেশের গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা হয়। দেশের চাহিদা অনুযায়ী প্রথম ১টা পর আর ১টা FSRU দিয়ে কাতার থেকে ১৫ বছরের জন্য ৯ থেকে ১১ মধ্যে ডলার প্রতি MMCFD গ্যাস আমদানির চুক্তি করে- আমদানি আরম্ভ করে।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের শেষে চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে নতুন আরও ২ (দুই)টি FSRU কার্যাদেশ প্রদান করে। অন্যদিকে অনুসন্ধান ও নতুন কূপ খনন কাজ জোরদার করে। তার অংশ হিসাবে ভোলাতে সম্ভাব্য ৫ ট্রিলিয়ন গ্যাসের সন্ধানও পায়। তখন মূল ভূখণ্ডে সেই গ্যাস আনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে।
এদিকে সরকারের মূল পরিকল্পনার অনুযায়ী বেসরকারি খাতে দেশে অনেক নতুন শিল্প কারখানা স্থাপন হচ্ছিল। সেই সব চাহিদা পূরণের প্রয়োজনে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট উন্নীত করেন। এবং ঐ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য জ্বালানির ব্যবস্থা করেন।
দুর্ভাগ্য, ডাঃ ইউনূস ক্ষমতা নেওয়ার পর কিছু না বুঝে জ্বালানি সরবরাহের কথা চিন্তা না করে ঐ ২টি FSRU-এর চুক্তি বাতিল করে দেন। একইভাবে বাতিল করে দৈনিক ১০০০ MMCFD ক্ষমতার Land-Based (স্থলভিত্তিক) এলএনজি টার্মিনাল ও রিজার্ভার স্থাপনের চুক্তি, যা শেখ হাসিনার সরকার, জাপানি ও বাংলাদেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ উদ্যোগে ২০২৪ সনে নভেম্বর-ডিসেম্বরে তৈরির কাজ আরম্ভ করার কথা ছিল। যদি এগুলি বাতিল না করত, তা হলে এখন গ্যাস/বিদ্যুতের এই সমস্যা হত না। এখন শুনছি ২ গুণ দামে একই গ্যাস ক্রয় করছে।
করে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (Single Point Mooring)- SPM প্রকল্পের পরিচালক (Operator) নিয়োগ চুক্তি। এই SPM পাকিস্তান আমল থেকে বড় কাঙ্ক্ষিত প্রকল্প, যা পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে মিলে ৬৫ বছরের শেখ হাসিনার আগে কেউ উদ্যোগ নেয় নাই। কিন্তু শেখ হাসিনা প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প নির্মাণ সম্পূর্ণ করেন।
প্রকল্পটি হল, যেহেতু কর্ণফুলী নদী দিয়ে ১৫/২০ হাজার টনের বেশি ক্ষমতার জাহাজ আসতে পারে না। তাই ১/২ লক্ষ টনের জাহাজে আনিত তেল সমুদ্রের মুখ্য থেকে ছোট ছোট লাইটারে করে Eastern Refinery-এ আনতে হয়, যাতে অনেক খরচ এবং ১৫/২০ দিন সময় লাগে। যাতে লাইটারেজ ভাড়া, Master Vessel Holding Charge, তেল অপচয়, এতে প্রতি মাসে প্রায় ২৫/৩০ কোটি টাকা খরচ হয়।
এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য বহির্নোঙর থেকে সমুদ্রের তলদেশে পাইপলাইন স্থাপন ও মহেশখালি স্থলভাগে প্রায় ৩ লক্ষ টন ধারণক্ষমতার ট্যাংক ও টার্মিনাল প্রতিষ্ঠা করে। ঐ পাইপলাইন দিয়ে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল ২/৩ দিনের মধ্যে Eastern Refinery ও নতুন স্থাপিত ট্যাংকে খালাস করা সম্ভব। ইহা চালু হলে মানুষ কম মূল্যে জ্বালানি তেল পাবে।
কিন্তু দুর্ভাগ্য, ডাঃ ইউনূস টার্মিনাল (SPM) পরিচালনার জন্য যে বিদেশী ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা বাতিল করে দেন। এখন প্রায় ২ বছরেরও বেশি সময় ইহা অকার্যকরভাবে পড়ে আছে, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুনছি এখন ২ গুণ দাম দেওয়ার প্রস্তাব করলেও কোনো বিদেশী প্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি।
অন্যদিকে, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবহনের খরচের কারণে জ্বালানি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কারণ দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চল থেকে শত শত কিঃমিঃ দূরে জ্বালানি পৌঁছানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। শত শত বছর ধরে অবহেলিত উত্তর অঞ্চলে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য কম খরচে জ্বালানি প্রয়োজন। তাই ভারত থেকে পাইপলাইন স্থাপন করে এর মাধ্যমে তরল জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করেন।
একইভাবে ঐ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য ভারত ও নেপাল থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রায় ২,৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা করা হয়। যার প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রায় ১১.৭২ টাকা এবং আমাদের নিজেদের দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রায় ১১.৮৫ টাকা।
উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের স্থায়ী বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ ও শিল্পায়নের জন্য পাবনায় রূপপুরে ২,৪০০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ভবিষ্যতে সেখানে আরও দুটি নিউক্লিয়ার বিদ্যুতের ইউনিট স্থাপন করার জন্য স্থান ও অনেক অবকাঠামো ঠিক করেছেন। তাই পরবর্তী ইউনিটগুলির খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। ইহা জাতির জন্য একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান।
দেশের সব শ্রেণির মানুষকে উন্নয়নের সাথে সংযুক্ত করা ও সবার জীবনমান উন্নত করা না গেলে দেশকে দ্রুত উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করা সম্ভব নয়।
ডাঃ ইউনূস এবং তারেক সাহেবের অদূরদর্শিতা, অপরিপক্ব ও সময় অনুপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে দেশ এখন মারাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে।
বর্তমান সরকার এখন বিদ্যুতের মারাত্মক সমস্যা সমাধানের স্থায়ী সমাধানের জন্য সোলার (সৌর) ও উইন্ড (বায়ু) বিদ্যুৎ দিয়ে সমাধান করার কথা বলেছে। ইহা শিশুকে "রাজা বানানোর" গল্প শোনানোর মত।
সৌর বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো-যখন সূর্যের আলো থাকে না, তখন মানুষ বিদ্যুৎ কোথায় পাবেন? জাপানের মতো দেশ, যাদের উন্নত প্রযুক্তি ও অর্থের অভাব নাই, তারাও তাদের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র ১১ শতাংশ বিদ্যুৎ বিকল্প সৌর ও উইন্ড বিদ্যুতের উপর নির্ভর করে। এই জন্য পৃথিবীতে বেশির ভাগ দেশে অতিরিক্ত বা বিকল্প হিসাবে সৌর বিদ্যুতের উপর নির্ভর করে।
গত শেখ হাসিনার সরকারও ১০ শতাংশ সৌর ও উইন্ড (বাতাস) বিদ্যুতের লক্ষ্যে ২৯টি প্রকল্পের জন্য বিদেশি কোম্পানিকে অনুমোদন ও জমি বরাদ্দ এবং কার্যাদেশ দেয়। যা ডাঃ ইউনূস বাতিল করে দেন।
অতীতের এবং অন্যের উপর দোষ চাপানোর এই সংস্কৃতি যাদের, তারা ধ্বংসের জন্য উপযুক্ত, সৃষ্টির জন্য নয়? যেমন অতীত সরকার নতুন কোনো গ্যাসকূপ খনন করেনি। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মানুষকে ভুল ধারণা দেওয়ার জন্য এই বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেওয়া হয়।
বাস্তবতা হলো, ব্যাপক অনুসন্ধান হয়েছে। গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা না জেনে কূপ খনন করা অর্থের অপচয়। কারণ প্রতিটি কূপ খনন করতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। তাই প্রথমে গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য সিসমিক সার্ভে (Seismic Survey) সহ বিভিন্ন প্রারম্ভিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়েই গ্যাস উত্তোলনের জন্য ড্রিল (Drill) করা হয়। তার পরেও সব সময় আশাব্যঞ্জক গ্যাস পাওয়া যায় না। তাই আর্থিক ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে খুব পরিকল্পিতভাবে অনুসন্ধান কাজে এগাতে হয়।
যদি আওয়ামী লীগ দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন না করত, তা হলে ১১০০ MMCFD থেকে ইহা ২৬০০ MMCFD উন্নীত হল কীভাবে?
পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে অনুসন্ধানের পরিকল্পনা ছিল। ঐ অঞ্চলে আগে কখন গ্যাস প্রাপ্তির কোনো ঐতিহাসিক তথ্য ছিল না। সব অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলেই গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয় পরিষ্কার হওয়া উচিত। সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ ভারত বিভাগ থেকে পর থেকেই বিদ্যমান। দেশ বিভক্তির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত Mr. Redcliff স্থল সীমানা ৯৫% শেষ করে সমুদ্রসীমাতে হাত না দিয়ে চলে যায়।
তারপর পাকিস্তানের ২৫ বছর এবং বাংলাদেশের (শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত) প্রায় ৪০ বছর, সর্বমোট ৬৫ বছর কোনো সরকার ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কোনো উদ্যোগ নেয় নাই।
শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ১৯৯৬ সন থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার জন্য নৌবাহিনীকে দায়িত্ব দেন। নৌবাহিনীর প্রয়োজনে সে সময় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কয়েকটি frigate কিনে দেন এবং তারা অনেক তথ্য সংগ্রহ করে। কিন্তু ২০০১ সনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর ঐ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
২০০৯ সনে ক্ষমতা গ্রহণের পর পুনরায় পূর্ণ উদ্যমে অগ্রাধিকার দিয়ে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির জন্য অনেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর হ্যাগ (Hague), নেদারল্যান্ডে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারত ও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ২টি পৃথক সমুদ্রসীমা সমাধানের জন্য মামলা করেন।
পরবর্তীতে বহুবার আদালতে শুনানির ও বহু কূটনৈতিক দেন-দরবারের পর বাংলাদেশ মিয়ানমারের কাছ থেকে প্রায় ১,১১,৫৮৮ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা এবং ভারতের সাথে বাংলাদেশের বিরোধপূর্ণ ২৫,০০০ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমার মধ্যে বাংলাদেশ পায় প্রায় ১৯,৪০০ বর্গকিলোমিটার এবং ভারত পেয়েছে ৫,৬০০ বর্গকিলোমিটার।
শেখ হাসিনার দূরদর্শী কূটনীতির প্রজ্ঞার কারণে উভয় দেশ এই রায় মেনে নেয়।
প্রশ্ন আসে, ১৯৮২ সালে প্রথম জাতিসংঘের অধীনে সমুদ্রসীমা আইন (UNCLOS)-এ আইন গৃহীত হয়েছিল। এরপর জাতীয় পার্টি ৯ বছর ও বিএনপি ১০ বছর ক্ষমতায় ছিল, কিন্তু তারা এ বিষয়ে কেন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি?
বর্তমান সরকারের নিকট প্রশ্ন
অতীতে (১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে) এই দীর্ঘ ১০ বছর সময় ক্ষমতায় থেকে বিদ্যুৎ জ্বালানির জন্য আপনারা কী কী করেছেন, সুনির্দিষ্ট করে বলবেন কি? দেশবাসীর জানা মতে, শেখ হাসিনার (১৯৯৬-২০০০) সময় ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় আরম্ভ হওয়া টঙ্গী, আশুলিয়া, ভৈরবে ঐ ছোট ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করা ছাড়া আর কিছুই কি করা হয়েছে?
এখন ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানির কিছু সমস্যা হলেও ভারত, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর বা চীনসহ কোথাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ কোনো সমস্যা নেই। বাংলাদেশের মতো কোথাও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং শিল্পকারখানা বন্ধের কোনো নজির নাই।
দুর্ভাগ্যবশত, ডাঃ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ঐ ২টি FSRU-এর কার্যাদেশ বাতিলের কারণে মূলত এই সমস্যা দেখা দেয়। এখন বহু বেশি দামে নতুন FSRU সংযুক্ত করতে কমপক্ষে আরও ২ বছর সময় লাগবে। প্রতিদিন গ্যাসের অভাবে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশের অর্থনীতি ভয়ঙ্কর নিম্নমুখী হচ্ছে এবং মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছে।
অথচ আওয়ামী লীগ সরকার দেশে প্রায় ৩০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপন করে ও জ্বালানির ব্যবস্থা করে গেছে। এরকম হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে ঐগুলি ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে বিদ্যুৎ/গ্যাসের কোনো সমস্যা হত না।
নিরপেক্ষভাবে বলতে গেলে, বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনায় দূরদর্শিতার অভাবে এই মারাত্মক বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের উদ্ভব হয়েছে। ইহা শুধু এই খাতে নয়, অন্য সকল খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। বিদ্যুৎ জ্বালানি না থাকলে বুঝা যায়। আর অন্য খাতের ধ্বংসের অবস্থা চোখে পড়ে না।
তাই বলব, স্বাধীনভাবে পত্রিকাকে লিখতে দিন, টেলিভিশনে কথা বলতে দিন। ওখান থেকে দেশের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারবেন। অনেক পরামর্শ পাবেন, যা আপনার দেশ পরিচালনায় ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করবে।
বিচার বিভাগকে দলীয় অফিসের মত ব্যবহার আর পুলিশ/প্রশাসনকে দলীয় কর্মীর মত ব্যবহার দেশ এবং আপনাদের ধ্বংস ডেকে আনবে।
সকল সমস্যা সমাধানের জন্য সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা অপরিহার্য। দয়া করে শাসন ব্যবস্থায় নজর দিন। এভাবে চললে এই সুন্দর দেশটি অনিবার্যভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।

মতামত লিখুন:
http://darktohope.org/ad/1763179181.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

দ্রুত উন্নয়নের দিকে ধাবিত দেশটি উল্টো দ্রুত গতিতে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে
স্বাধীনতার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এক মহীয়সী নারী: বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব
Sheikh Fazilatunnesa Mujib
The Awami League was born through its own efforts, created Bangladesh, and transformed a poor nation into a developing country-such a party cannot remain banned.
আওয়ামী লীগ নিজে জন্মেছে, বাংলাদেশকে জন্ম দিয়েছে, হতদরিদ্র দেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত করেছে-সে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকতে পারে না।
মতামত- এর আরো খবর
Email: [email protected]
© 2024 Dark to Hope
🔝