দুই তরুণ ব্যালট পেপারে সিল মারছেন; বাকি তিনজন সেই পেপার ভরছিলেন বক্সে—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে এমন একটি দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ময়নসিংহের ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের লোহাবৈ বরাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা আড়াইটার পর তরুণদের একটি দল লোহাবৈ বরাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে পাঁচজন তরুণ একটি বুথে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল মারতে শুরু করেন। বুথে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। ওই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন ব্যালট পেপারে সিল মারছেন। অন্য তিনজন সেই ব্যালট পেপার ভাজ করে বাক্সে ভরছেন। আরও তিনজনকে সেখানে দেখা যায়।
এ ঘটনায় পর আধা ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিনকে অব্যাহতি দিয়ে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবু হেনাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন জানান, উপজেলা পরিষদের কন্ট্রোল রুমে সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনা দেখার পরপরই সেখানে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট যান। যাচাই–বাছাইয়ে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কিছুটা দুর্বলতা ছিল। তাকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ওই পাঁচ তরুণ হয়তো সর্বোচ্চ ৫০-১০০টি সিল মেরে থাকতে পারে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ব্যালট পেপারে যদি সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সিল–স্বাক্ষর না থাকে, তাহলে সেটি অবৈধ। অবৈধ ব্যালট কাউন্ট করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সেই ব্যালট পেপার গণনা করব না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা ভোটারদের ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছি।
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ