Publish: Friday, 30 January, 2026, 6:46 PM

ভারত থেকে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে ফেরত আসা ১২৮ জন বাংলাদেশি জেলেকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে মোংলা কোস্ট গার্ড। অপরদিকে, ২৩ জন ভারতীয় জেলে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যস্থতায় উভয় দেশের কোস্ট গার্ড নিজ নিজ নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিসিজিএস কামরুজ্জামানের অধিনায়ক কমান্ডার শাহ কামরুজ্জামান।
তিনি জানান, বাংলাদেশ–ভারত আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমারেখা সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে মৎস্য আহরণের অভিযোগে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত বছরের ১৮ ও ২৩ অক্টোবর দুটি ভারতীয় ফিশিং বোটসহ ২৩ জন ভারতীয় জেলেকে আটক করে।
অন্যদিকে, ভারতীয় কোস্ট গার্ড গত বছরের ১৬, ১৭, ১৯ ও ৩০ নভেম্বর ভারতীয় জলসীমায় অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে পাঁচটি বাংলাদেশি ফিশিং বোটসহ ১২৮ জন বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে।
পরবর্তীতে উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে আটক জেলেদের বন্দি বিনিময়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
ভারতে আটক বাংলাদেশি ফিশিং বোটগুলোর মধ্যে ছিল— এফবি আদিব–২ (২৮ জন), এফবি মায়ের দোয়া (৩২ জন), এফবি নুরে মদিনা (২৪ জন), এফবি আমিনা গণি (২৯ জন) এবং এফবি আল্লাহ মালিক (১৫ জন)।
সর্বমোট ১২৮ জন বাংলাদেশি জেলেকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জাহাজ বিসিজিএস কামরুজ্জামান ও বিসিজিএস সোনার বাংলা-এর মাধ্যমে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে আটক ভারতীয় জেলেরা দুটি ফিশিং বোটে ছিলেন— এফবি শুভ যাত্রা (১৪ জন) ও এফবি অনি–২ (৯ জন)। মোট ২৩ জন ভারতীয় জেলেকে ভারতীয় কোস্ট গার্ড জাহাজ ‘ভিজয়া’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কমান্ডার শাহ কামরুজ্জামান আরও জানান, বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে ভারতীয় জেলেদের বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে মুক্ত করে মোংলায় আনা হয় এবং ২৮ জানুয়ারি হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে সমুদ্রে নেওয়া হয়। পরদিন ২৯ জানুয়ারি বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম আন্তর্জাতিক মেরিটাইম বাউন্ডারি লাইন এলাকায় দুই দেশের কোস্ট গার্ডের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলেদের হস্তান্তর ও গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
সবশেষে শুক্রবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মোংলা বেইসে বাংলাদেশি জেলেদের নিজ নিজ ফিশিং বোটসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দীর্ঘদিন পর স্বজনদের ফিরে পেয়ে জেলেদের পরিবারে আনন্দ ও স্বস্তির আবহ সৃষ্টি হয়।
কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা জানান, দুই দেশের কোস্ট গার্ডের সমন্বিত উদ্যোগে শান্তিপূর্ণভাবে বন্দি বিনিময় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ