ব্যাংক ঋণের চড়া সুদের হার চট করে কমিয়ে আনা খুব একটা সহজ কাজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’-এর সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সুদের হার একদিকে কমালে অর্থনীতির অন্য খাতে চাপ তৈরি হয়, যা সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। রেট অব ইন্টারেস্ট কমিয়ে দেয়া খুব সহজ কাজ না। এখানে ব্যাংক রেটের সঙ্গে ট্রেজারি বিলের রেট যুক্ত। একদিকে চাপ দিলে অন্যদিকে বেলুনের মতো ফুলে যাবে। এতে শেষ পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই সুদের হার ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা ও সমন্বয় জরুরি।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা ছয়-নয় সুদহার নীতি তুলে নেওয়ার পর বাজারভিত্তিক ব্যবস্থায় ঋণের সুদ ১৪-১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে বিনিয়োগ প্রবণতা কমেছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে মিলিয়ে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ট্রেজারি বিলের সুদহার এরই মধ্যে কমেছে উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এর প্রতিফলন ধীরে ধীরে বাজারে আসবে। তবে যদি ট্রেজারি বিল বা সঞ্চয়পত্রের সুদ বাড়িয়ে দেয়া হয়, তাহলে ব্যাংকে আমানত রাখা কমে যাবে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের মূল কাজ হলো সঞ্চয় ও ঋণের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা। ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। এই কাঠামো দুর্বল হলে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
কেবল মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, বাজার তদারকি এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তা পর্যায়ের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই সমাধান আসবে না। ইনফ্লেশন একটি সংবেদনশীল ও রাজনৈতিক বিষয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ডিভিশনের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার।
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ