টাকা ও স্বর্ণ লুটের উদ্দেশ্যেই রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলিকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছে তার পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, বাসা ফাঁকা পেয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের হোটেলের এক কর্মচারী। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মিলন পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ওই বাড়ির সামনে স্থানীয় লোকজন ভিড় করে আছেন। এভিনিউ রোডসংলগ্ন টিনশেড বাড়িটির ভেতরে চারটি কক্ষ রয়েছে। বাড়িটির সামনেই রয়েছে শাহজালাল হোটেল।
হোটেলটির মালিক সজিব তালুকদার। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে । নিহত ফাতেমা আক্তার লিলি (১৫) তাদের ছোট মেয়ে, সে রেডিয়্যান্ট স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। পরিবার বলছে, হোটেলের কর্মচারী মিলনই লিলিকে হত্যা করেছে। হত্যার পর বাসায় থাকা প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় সে।
নিহতের বাবা সজিব তালুকদার জানান, পারিবারিক কারণে তিনি হোটেল বন্ধ রেখে পরিবারসহ হবিগঞ্জের লাখাইয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাসায় তার দুই মেয়ে ছিলেন। হোটেল বন্ধ থাকায় যাওয়ার আগে মিলনকে বাসা থেকে খাবার দেওয়ার কথা বলে যান।
তিনি জানান, শনিবার বিকাল তিনটার দিকে তিনি খবর পান তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
সজিব তালুকদার বলেন, মিলন দেড়–দুই মাস আগে আবার হোটেলে কাজে যোগ দেয়। এর আগেও তিন–চার বছর আগে সে এখানে কাজ করেছিল। এ কারণে আগে থেকেই তার সঙ্গে পরিচয় ছিল। মিলনের বাড়ি খুলনা অঞ্চলে।
নিহতের বড় বোন শোভা জানান, হোটেল বন্ধ থাকায় মিলন বাসা থেকে খাবার নিত। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সে খাবার নিতে এলে দেরিতে আসার কারণে লিলি দরজা না খুলে দরজার নিচ দিয়ে খাবার দেয়। শনিবার দুপুরে মিলন আবার আসে।
তিনি বলেন, “আমি বাসা থেকে বের হলে মিলনও বের হয়। কিন্তু পরে আবারও সে বাসায় আসে।”
শোভা জানান, খবর পেয়ে বাসায় ফিরে তিনি বোনকে গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পান।
শোভার অভিযোগ, মিলনই তার বোনকে হত্যা করেছে। হত্যার পর সে বাসা থেকে স্বর্ণ ও টাকা-পয়সা লুট করে এবং লিলির মোবাইল ফোনটিও নিয়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রথমে মিলন তার বোনের গলায় রশি পেঁচিয়ে রান্নাঘরে নিয়ে যায়। পরে ধারালো বটি দিয়ে গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
ঘটনার বিষয়ে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একজনকে আসামি করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।”
পুলিশের একটি সূত্র বলছে, হোটেলটিতে ভালো বেচাকেনা হতো। মালিকসহ পরিবারের অন্য কেউ বাসায় না থাকায় এই সুযোগে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা গেলে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পেছনের অন্য কারণ থাকলে তা বেরিয়ে আসবে।
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের একটি বাসা থেকে রেডিয়্যান্ট স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ