রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬,
২৮ পৌষ ১৪৩২
বাংলা English हिन्दी

রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
অর্থনীতি
দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট, বন্ধের পথে প্রায় ১ হাজার অটোগ্যাস স্টেশন
নিউজ ডেস্ক
Publish: Sunday, 11 January, 2026, 12:05 PM

সারা দেশে চলমান প্রকট গ্যাস সংকট শিগগির কাটছে না—বরং দিন দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। চলতি মাসের শুরু থেকেই পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বাসাবাড়ি, পরিবহন ও শিল্প খাতে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলপিজির সরবরাহ সংকট, যার ফলে বাজারে তৈরি হয়েছে নৈরাজ্য। সরকারি নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ দামে এলপিজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাহকরা।

সরবরাহ কমে যাওয়া ও কারিগরি ত্রুটির কারণে পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি এলপিজির সংকট পরিবহন খাতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়িতে রান্না করা সম্ভব না হওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।

শীতকালে পাইপলাইনের ভেতরে জলীয় বাষ্প ও তরল পদার্থ জমে যাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে যায়। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে পানি গরমসহ অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে শীতে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়।

২০১০ সাল থেকে আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কয়েকগুণ বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৫ জানুয়ারির আগে এলপিজি সংকট কাটার সম্ভাবনা কম।

গত ডিসেম্বর থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। চলতি মাসের শুরু থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। অনেক এলাকায় রাত ১টার পর সাময়িকভাবে গ্যাস মিললেও ভোরের পর তা আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা।

রাজধানীর মগবাজার, ইস্কাটন গার্ডেন, মোহাম্মদপুর, মুগদা, বাড্ডা, রামপুরা, শান্তিবাগ, পুরান ঢাকাসহ মিরপুর, কল্যাণপুর, মহাখালী, গ্রিন রোড, নয়াবাজার ও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা গত ১৫ দিন ধরে রান্না করতে না পেরে হোটেলনির্ভর হয়ে পড়েছেন। অথচ গ্যাসের বিল ঠিকই পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবারের ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার পরিবর্তে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। পান্থপথের খুচরা ব্যবসায়ী আহাদ মুনির বলেন, “মাল কম থাকায় এবং বেশি দামে কিনতে হওয়ায় দোকান অনেক সময় বন্ধ রাখতে হয়। বেশি দামে বিক্রি করলে অভিযানের ভয় থাকে।”

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে গ্যাসের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে আমদানি করা এলএনজিসহ সরবরাহ রয়েছে মাত্র আড়াই থেকে ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক ঘাটতি রয়েছে প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।

পরিবহন খাতে এলপিজি সংকটের প্রতিবাদ ও দাবির বিষয়ে শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। এতে সরকারের কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে গ্যাস সংকট মূলত ২০২০ সালের পর থেকে শুরু হয়। ওই সময় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন ধীরে ধীরে কমতে থাকে। অথচ এ সময়ের মধ্যে বড় কোনো নতুন উত্তোলনযোগ্য গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়নি। ফলে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়। বর্তমানে সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানিই একমাত্র ভরসা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা বলেন, এলপিজি অটোগ্যাস একটি পরিবেশবান্ধব ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী জ্বালানি। সরকারের উৎসাহে দেশের ৬৪ জেলায় প্রায় ১ হাজার অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রায় দেড় লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। তবে বর্তমান তীব্র সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

এলপিজির পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতেও একই সংকট দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ডার্ক টু হোপ/এসএইচ
মতামত লিখুন:
http://darktohope.org/ad/1763179181.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

দণ্ডিত ২৫ বাংলাদেশিকে ক্ষমা করলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট
দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট
৪০০ বছরের পুরনো যৌনপল্লীর গল্পে সিনেমা, প্রকাশ্যে ট্রেলার
টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ সেই শিশুটি বেঁচে আছে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ-প্রচারণা নিষিদ্ধ
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Email: [email protected]
© 2024 Dark to Hope
🔝