আজ শবে বরাত। সরকারি ছুটির দিন। ছুটির দিনে সচরাচর রাজধানী ঢাকার সড়কে যানবাহনের চাপ কম থাকে। তবে যানবাহনের চাপ কম থেকেও বায়ুদূষণ থেকে মুক্ত পায়নি নগরবাসী। শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় আজও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় উপরের দিকে ঢাকা।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বাতাসের মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার বাতাসের মান ছিল ২৫৯। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এই মেগাসিটি।
একই সময় দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ২৭৬। এছাড়া তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তানের লাহোর (স্কোর ২২৪) ও ভারতের আরেক শহর কলকাতা (স্কোর ২১৭)।
বায়ুমানের সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে তাকে ‘ভালো’ বলা হয়, আর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। ঢাকার বর্তমান স্কোর যেহেতু এই সীমার মধ্যে রয়েছে, তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়ির ভেতরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদের ক্ষেত্রেও বাড়ির বাইরের শারীরিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বায়ুমান ৩০০ অতিক্রম করলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং শুষ্ক মৌসুমের ধূলিকণা ঢাকার বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছে। নিয়মিত রাস্তাঘাটে পানি না ছিটানো এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এই পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক এই সূচকটি মূলত পিএম ২.৫ নামক অতি ক্ষুদ্র ধূলিকণার উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, যা সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তে মিশে যেতে পারে। ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য এই নীরব ঘাতক থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ