দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর অবশেষে তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে পুনরায় বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে ফেরানোর আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকা সাবেক এই অধিনায়ককে আসন্ন মার্চে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলার জন্য বিবেচনায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
গত ২৪ জানুয়ারি বিসিবির বোর্ড সভায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হয় এবং সাকিবের ফর্ম ও ফিটনেস সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্বাচকদের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। বিসিবির এই পদক্ষেপে সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পথ যেমন প্রশস্ত হলো, তেমনি তার মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছাও নতুন করে প্রাণ পেল।
বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সাকিবকে জাতীয় দলে ফেরানোর প্রক্রিয়াটি এখন বোর্ডের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছে। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে জানান যে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম স্বয়ং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন যাতে সাকিবের দেশে ফেরা ও খেলায় কোনো ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক বাধা না থাকে।
বিসিবির লক্ষ্য হলো আগামী মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেই সাকিবকে দলে ফেরানো। আসিফ আকবরের মতে, সাকিব বাংলাদেশের ক্রিকেটে যে বিশাল অবদান রেখেছেন, সেই সম্মান জানিয়েই তাকে দেশের মাটিতে খেলে ক্যারিয়ার শেষ করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাকিব আল হাসান আর দেশে ফিরতে পারেননি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, যার ফলে পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে অবসরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও গ্রেফতার আতঙ্ক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বোর্ড সে সময় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে ফারুক আহমেদের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বোর্ড সাকিবের সেই শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারেনি। বর্তমানে আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ড সাকিবের ফেরা নিয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
মার্চ মাসে পাকিস্তান দল বাংলাদেশে এসে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে এবং ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) শেষ করে মে মাসে পুনরায় দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে আসবে। বিসিবি মনে করছে, এই সিরিজটি সাকিবের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ হতে পারে।
সাকিবের ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, তিনি দেশে ফিরে খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন। যদিও পাকিস্তান সিরিজই তার ক্যারিয়ারের শেষ হবে কি না, তা একান্তই সাকিবের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে বিসিবি জানিয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন সরকারের সবুজ সংকেতের দিকে, যা সাকিবের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্ত করবে।
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ