মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬,
১৪ মাঘ ১৪৩২
বাংলা English हिन्दी

মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
গণমাধ্যম
গণমাধ্যমের ভবন পোড়ানো যায়, কিন্তু সত্য বলার চেতনাকে স্তব্ধ করা যায় না
নিউজ ডেস্ক
Publish: Sunday, 18 January, 2026, 12:24 AM

দেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে কিছু দিন রয়েছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় আটকে থাকে না-সেগুলো সময়ের বিবেক হয়ে ওঠে। ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’ তেমনই একটি ঐতিহাসিক দিন। এটি কোনো দলীয় সভা ছিল না, কোনো আনুষ্ঠানিক সেমিনারও নয়। এটি ছিল আগুন-সন্ত্রাস, ভয়, হুমকি ও সংগঠিত মব ভায়োলেন্সের মুখে দাঁড়িয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের সমবেত আত্মপ্রকাশ ও ঘোষণাপত্র।

প্রভাবশালী দৈনিক প্রথম আলো ও দেশের অন্যতম ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া ও নির্বিচার হামলা, সাংবাদিকদের হেনস্তা, সংবাদপত্র পোড়ানোর দৃশ্য এবং ফায়ার সার্ভিসকে কাজ করতে বাধা দেয়ার অভিযোগ-এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল, আঘাতটি শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়; আঘাতটি ছিল স্বাধীন সাংবাদিকতার অস্তিত্বের ওপর। সেই প্রেক্ষাপটেই রাজধানী ঢাকায় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয় ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’-যেখানে দেশের শীর্ষ সম্পাদক, সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও সংগঠনগুলো এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করেন একটি স্পষ্ট বার্তা: ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকতাকে কোনভাবেই থামানো যাবে না।

আগ্রাসী আগুনের লেলিহান শিখা থেকে সম্মিলনের চেতনার জন্ম: সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ছিল অস্বস্তিকর, উদ্বেগজনক এবং গভীরভাবে বিপজ্জনক। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত হামলার সময় কেবল ইট-পাটকেল বা ভাঙচুরই হয়নি-ঘটেছে পরিকল্পিত আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা, সাংবাদিকদের জীবন্ত পুড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টা। সংবাদপত্রের কার্যালয় পুড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য যেন মধ্যযুগীয় কোনো প্রতিশোধপরায়ণতার প্রতীক হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, আগুন নেভাতে আসা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকেও বাধা দেয়া হয়।

খবর পেয়ে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ছুটে যান সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও  ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। সেখানে তাকে প্রকাশ্যে হেনস্তার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। এসব ঘটনা একত্রে ইঙ্গিত দিচ্ছিল-এটি বিচ্ছিন্ন ক্ষোভ নয়, বরং সংগঠিত আক্রমণের ন্যাক্কারজনক ধারা। 

এমন বাস্তবতায় সাংবাদিক সমাজের ভেতরে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল-চুপ থাকলে কী নিরাপদ থাকা যাবে? নাকি চুপ থাকাই পরবর্তী আক্রমণের পথ প্রশস্ত করবে? এই প্রশ্নের উত্তর হিসেবেই জন্ম নেয় ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’।

নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের ঐক্যের শক্তিশালী মঞ্চ ছিল এই সম্মেলন। এই সম্মিলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল এর যৌথ আয়োজন। নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদক পরিষদ একসঙ্গে এই আয়োজন করে-যা বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে বিরল। সাধারণত মালিক ও সম্পাদকদের অবস্থান, ভাষা ও অগ্রাধিকার অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন ও সাংঘর্ষিক হয়ে থাকে। কিন্তু এই সম্মিলনে স্পষ্ট হয়ে যায়, আঘাত যখন অস্তিত্বের ওপর, তখন বিভাজনের আর কোন সুযোগ নেই।

বিভিন্ন মত, রাজনৈতিক অবস্থান ও দর্শনের মানুষ এক মঞ্চে এসে দাঁড়ান। কেউ সরকার সমালোচক, কেউ নীতিগতভাবে সংযত, কেউ আবার আপসহীন-তবু সবার কণ্ঠে ছিল একই সুর: গণমাধ্যমের ওপর সহিংসতা কোনোভাবেই আর মেনে নেয়া হবে না।

এটা ক্ষোভ নয়, এটা মধ্যযুগীয় বর্বরতা: নূরুল কবীর 

নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরের বক্তব্য ছিল সম্মিলনের সবচেয়ে শক্তিশালী ও আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি। তার বলিষ্ঠ কণ্ঠে ছিল গভীর অভিজ্ঞতা আর স্পষ্ট সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, ‘এগুলো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়। এগুলো মধ্যযুগীয় বর্বরতা।’

সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, গণমাধ্যমের ব্যক্তিদের এই হামলার ঘটনাকে সমর্থনের সুযোগ নেই। কারও সমর্থন আছে কি নেই, সেটার সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্ক নেই; বরং এমন পরিস্থিতিতে সব গণমাধ্যম সমানভাবে হুমকির মুখে আছে। তিনি আরও বলেন, 'আজকে এটার মধ্যে হয়েছে কালকে আপনারটার মধ্যে হবে। পরশু দিন আরেকটার মধ্যে হবে।'

পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান নূরুল কবীর। তিনি বলেন, ‘সমাজে ভিন্ন মত থাকবে, ভিন্ন কণ্ঠ থাকবে, ভিন্ন ভিন্নভাবে মানুষ কথা বলবে। এই বৈচিত্র্য জারি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা কোনো অপরাধের আকাঙ্ক্ষা হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন নূরুল কবীর। তিনি বলেন, গণমাধ্যম যদি উচ্চকণ্ঠ না থাকে, তাহলে সমাজে অনেক ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সমাজে ভিন্ন মত থাকবেই। কিন্তু ভিন্ন মতের সঙ্গে সহাবস্থানের সংস্কৃতি না থাকলে গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। গণমাধ্যমের কাজ প্রশ্ন তোলা, ক্ষমতার কাছে অস্বস্তিকর সত্য বলা। সেটাই যদি অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে রাষ্ট্রের ভেতর ন্যায়বিচারের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল একটি ভবিষ্যদ্বাণী—আজ যদি এই বর্বরতার বিরুদ্ধে না দাঁড়ানো হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও ভয়াবহ আঘাত আসবে।

মাহফুজ আনাম: ‘সরকারকে সত্য কথা বলার একমাত্র প্রতিষ্ঠান স্বাধীন সাংবাদিকতা’

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বক্তব্য ছিল রাষ্ট্র ও সাংবাদিকতার সম্পর্ক নিয়ে একটি গভীর পর্যালোচনা। তিনি বলেন, ‘সরকারকে সত্য কথা বলার মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান খুব বেশি নেই। আদালত, সংসদ-সব জায়গাতেই নানা সীমাবদ্ধতা আছে। স্বাধীন সাংবাদিকতাই শেষ ভরসা।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন-বাজেটের অনিয়ম, প্রকল্পের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার-এসব নিয়ে কে প্রশ্ন করবে, যদি সাংবাদিকরা ভয় পেয়ে যান?

তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, স্বাধীন গণমাধ্যম কেবল সাংবাদিকদের অধিকার নয়; এটি নাগরিকের অধিকার। সংবাদমাধ্যমকে চুপ করিয়ে দিলে সমাজ অন্ধ হয়ে যায়, আর অন্ধ সমাজে ক্ষমতা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, 'সরকার আপনি যে বাজেট নিয়ন্ত্রণ করেন—লাখ লাখ কোটি টাকার বাজেট। আপনি একমুহূর্তের জন্য মনে করবেন না, এই টাকা আপনার। এই টাকা হচ্ছে ট্যাক্স পেয়ারদের, এই টাকা হচ্ছে জনগণের। আপনি কীভাবে সেটা ব্যবহার করছেন, অবশ্যই আপনাকে আমরা সমর্থন করব যেখানে সুন্দর সঠিক গণতান্ত্রিক এবং প্রো পিপল প্রজেক্ট হবে, কিন্তু ওই প্রজেক্ট যদি করাপশনের মূল জায়গা হয়ে যায়, এ কথা কিন্তু আপনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা বলবে।'

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুনভাবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। একইভাবে সাংবাদিকতার একটা নতুন গণতান্ত্রিক, বলিষ্ঠ ন্যায়পরায়ণ, এথিক্যাল জার্নালিজম করার একটা সময় এসেছে।' সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে সাংবাদিকতা পেশাকে আরও বেশি জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। মাহফুজ আনাম বলেন, সাংবাদিকতা শুধু একটি চাকরি নয়; এটি মূলত একটি সমাজসেবামূলক পেশা। গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, বৈষম্য দূরীকরণ এবং সব ধর্ম ও গোষ্ঠীর মানুষের সমান অধিকারের পক্ষে কাজ করাই সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র।

মতিউর রহমান: ঐক্যের ভাঙন আর ইতিহাসের শিক্ষা

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান তার বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন অতীতের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক সময় ভেবেছি—সরকার বদলালেই মুক্তি আসবে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, সেটি ভুল।’

তিনি সাংবাদিক সমাজের ভেতরের বিভক্তির কথাও তুলে ধরেন। রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও অবস্থানগত সুবিধা কীভাবে সাংবাদিক ঐক্যকে দুর্বল করেছে, তার সমালোচনা করেন তিনি। তার বক্তব্যের মূল ছিল—সাংবাদিকতা রক্ষা করতে হলে সাংবাদিকদেরই আগে এক হতে হবে।

মতিউর রহমান বলেন, ‘এই যে সমবেত হওয়া, ঐক্য থাকা, ঐক্যবদ্ধ থাকা, একত্র হওয়া, একে অপরের পাশে থাকা, একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রতি সংহতি–সহানুভূতি জানানো, এটা খুবই জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমাদের ভাবার কোনো কারণ নাই, আগামী সরকার, নির্বাচিত সরকার আসলেই আমাদের সবকিছু আমরা পেয়ে যাব। অতীতেও হয়নি, এখনো হবে না।’

সাংবাদিক শফিক রেহমানের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত জীবনের ৫৫ বছর, শফিক (শফিক রেহমান) ভাইয়ের জীবনের আরও অনেক বেশি বছর কোনো সরকার, কোনো সময় যায়নি যে আমাদের ওপরে কোনো না কোনোভাবে হয় ডিক্লারেশন বন্ধ...১৯৭৫ সালে তো সব পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেল। একটা প্রথম বড় রকমের স্বৈরতান্ত্রিক পদক্ষেপ ছিল বাংলাদেশের কোনো এক সরকারের বা বিশেষ করে স্বাধীনতার পরের সরকারের পক্ষ থেকে। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না। তার পরবর্তী সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক শাসন সব আমলেই আমাদের প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতা ছোট, বড়, মাঝারি রকমের।’

শফিক রেহমান: স্বাধীন সাংবাদিকতা মানে স্বনির্ভরতা

বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও লেখক শফিক রেহমান তার বক্তব্যে স্বাধীনতার একটি ভিন্ন মাত্রা তুলে ধরেন। তার মতে, কেবল কথা বলার স্বাধীনতা যথেষ্ট নয়; দরকার আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা।

তিনি বলেন, সাংবাদিক যদি কেবল একটি চাকরির ওপর নির্ভরশীল হন, তাহলে চাপ এলেই কণ্ঠ নরম হয়ে যাবে। বিকল্প দক্ষতা, আত্মসম্মান এবং ব্যক্তিগত সাহস-এই তিনটি ছাড়া স্বাধীন সাংবাদিকতা টেকসই হয় না। তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, শারীরিক ক্ষতির স্মৃতি-সবকিছু মিলিয়ে তার বক্তব্য ছিল এক ধরনের নৈতিক আহ্বান।

মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর বেপরোয়া হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে আয়োজিত 'গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬'-তে আমরাও ছিলাম...সাংবাদিকতার ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রকাশক, সম্পাদক ও লেখকের দায়িত্ব আলাদা করে তুলে ধরেন শফিক রেহমান। তার মতে, লেখকের প্রধান কাজ চিন্তা করে লেখা, ক্ষমতার সঙ্গে আপস নয়। তিনি বক্তা নন, লেখক হতে চেয়েছিলেন এবং আজও তা–ই হতে চান।

নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে শফিক রেহমান বলেন, ‘জেলখানায় যাওয়ার পরে আমি আমার বাম চোখ হারিয়েছি, বাম কান হারিয়েছি। ডান কানে খুব কম শুনি এবং ডান চোখে এখন আমি বলে ৫০ শতাংশ দেখছি। আমি কিন্তু কানের মধ্যে মেশিন লাগিয়েই আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি।’ তবু এসব প্রতিবন্ধকতা তাঁকে মতপ্রকাশ থেকে বিরত রাখতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিক রেহমান বলেন, দেশের ব্যাংকিং ও মুদ্রানীতিতে দীর্ঘদিনের ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব এখন স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, মানুষের স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার লক্ষণ। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি শক্তিশালী ও মানসম্মত ব্যাংকিং কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
 
আইন ছাড়া সুরক্ষা নেই: কামাল আহমেদ- কামাল আহমেদ তার বক্তব্যে কাঠামোগত সমাধানের কথা বলেন। তিনি জোর দেন সাংবাদিক সুরক্ষা আইন ও আচরণবিধির ওপর। সাংবাদিকদের দ্বৈত পরিচয়—রাজনৈতিক কর্মী ও সাংবাদিক একাট্টা হয়ে যাওয়া—এই প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার, মামলা, ভয় দেখিয়ে গণতন্ত্র চলে না। রাষ্ট্র যদি সত্যিই শক্তিশালী হতে চায়, তাহলে সরকারকে গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

অনুপস্থিত থেকেও উপস্থিত নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ: মায়ের অসুস্থতার কারণে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করায় সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে না পারলেও নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদের ভূমিকা ছিল স্পষ্ট। গত বছর ২২ ডিসেম্বর তিনি যে ঘোষণা দিয়েছিলেন-গণমাধ্যমের ওপর হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান—এই সম্মিলন ছিল তার বাস্তবায়ন। নোয়াবের আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা এই সম্মিলনকে কেবল প্রতীকী নয়, কার্যকর করে তোলে।

গোটা সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।  

এই সম্মিলন কোনো করতালি-নির্ভর আয়োজন ছিল না। ছিল না রাজনৈতিক আনুগত্য ও স্লোগান। ছিল এক ধরনের ভারী নীরবতা-যার ভেতর দিয়ে জন্ম নেয় অদম্য দৃঢ়তা ও শক্তিশালী ঐক্য। উদীয়মান সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের কাছে এটি শুধু বক্তৃতা শোনার জায়গা ছিল নয়। এটি ছিল নিজেকে প্রশ্ন করার মুহূর্ত-আমি কী ভয় পেলে চুপ থাকব? নাকি পেশার দায়বদ্ধতা কাঁধে তুলে নিবো?

‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’ হয়তো এখনই কোনো আইন পাশ করায়নি, কোনো সরকারের তোষামোদি করেনি। এটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে-সংবাদপত্রের ভবন পোড়ানো যায়, কিন্তু সত্য বলার চেতনাকে স্তব্ধ করা যায় না। ভবন ভাঙা যায়, কিন্তু সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতাকে নয়। এই সম্মিলন ছিল বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একটি সমবেত শপথ-আতঙ্ক থাকলেও থামবে না কলম।

ডার্ক টু হোপ/এসএইচ
মতামত লিখুন:
http://darktohope.org/ad/1763179181.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

ভৈরবে বগি লাইনচ্যুত: ৯ ঘণ্টা পর তিন রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা : আসামি মিজান গ্রেপ্তার
দুর্নীতি দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
গ্রিসে বিস্কুট কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ৫
বাংলাদেশিসহ ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতা দিল স্পেন
গণমাধ্যম- এর আরো খবর
Email: [email protected]
© 2024 Dark to Hope
🔝