ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ খুবই ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণমাধ্যমে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো জানিয়ে ইভারস আইজাবস বলেন, ‘স্বল্প মেয়াদি ইইউ পর্যবেক্ষকরা আজ থেকে মাঠে থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নির্বাচনি পরিবেশ খুবই ইতিবাচক। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার। তবে, মোটা দাগে পরিবেশ আশাব্যঞ্জক। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইইউ, যেখানে সংখ্যালঘু ও নারীর অংশগ্রহণ থাকবে।’
নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন এবং প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে নির্বাচনি পরিবেশকে ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে। অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও সামগ্রিক প্রত্যাশা ও পরিবেশ আশাব্যঞ্জক।’
ইভারস আইজাবস বলেন, ‘আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এবং তখন এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজ হলো নিরপেক্ষ থাকা এবং কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত না হওয়া। নির্বাচন শেষে প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে, যারা ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় নির্বাচনের দিন চলমান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। এই স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, ভোটকেন্দ্র বন্ধ, ব্যালট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।’
ইভারস আইজাবস বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা প্রায় প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার শহর, নগর ও গ্রামে উপস্থিত থাকবেন। সারা দিনজুড়ে তাদের করা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।’
স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকদের এই নিয়োগ মূলত আগের ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকের কাজেরই একটি ধারাবাহিকতা, যারা জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তারা নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছেন, যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচন প্রশাসনের প্রস্তুতি, নির্বাচনি প্রচারণার কার্যক্রম এবং ভোটার সচেতনতামূলক উদ্যোগ। এ ছাড়া, তারা রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গেও নিয়মিত বৈঠক করছেন।’
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল মিশনটিকে আরও জোরদার করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশন থেকে স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৫ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক, পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরাও মিশনে যোগ দিচ্ছেন।
পূর্ণ সক্ষমতায় এই মিশনে ২০০ জনেরও বেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন, যারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা।
ইভারস আইজাবস বলেন, ‘দেশজুড়ে আমাদের ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন, যার মাধ্যমে আমরা এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অবদান রাখছি। এই বৃহৎ এবং নিবেদিত মিশন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবিচল অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।’
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ