ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তা ইস্যুতে কড়া অবস্থানের কথা জানাল পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্বাচনের সময় যেকোনো ধরনের অস্ত্রই নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি এই মন্তব্য করেন।
থানা থেকে লুট হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্রসহ অবৈধ অস্ত্র নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে বাহারুল আলম বলেন, ‘অস্ত্র মানেই ঝুঁকি। শুধু বৈধ বা অবৈধ নয়- যে কোনো অস্ত্রই নির্বাচনের পরিবেশের জন্য থ্রেট। সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণভাবে অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার অগ্রগতি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র মালিকরা জমা দিয়েছেন। কিছু অস্ত্র এখনো জমা না পড়লেও সেটির সংখ্যা খুবই সীমিত। অনেক মালিক বিদেশে অবস্থান করায় বা অস্ত্র লকারে তালাবদ্ধ থাকায় সেগুলো জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইজিপি জানান, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে বৈধ অস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে মাঠে থাকবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তিন স্তরে সাজানো হয়েছে, যেখানে প্রযুক্তির ব্যবহার থাকবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়।
তার ভাষায়, প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ব্যবহার করা হবে বডি ক্যামেরা। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারিতে পুলিশ সুপার পর্যায়ে ড্রোন ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বার্তাটি পরিষ্কার- নির্বাচনের দিনে কোনো ধরনের অস্ত্র বা সহিংসতার জন্য বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই কঠোর প্রস্তুতি।
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ