সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাতটি নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রকাশিত এই ফলাফলে তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলার প্রার্থীদের মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়। অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচিত প্রার্থীদের আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন প্রদত্ত স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ এবং ডোপটেস্ট রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে। স্বাস্থ্যগত সনদে যদি কোনো প্রার্থীকে ওই পদের জন্য অনুপযুক্ত উল্লেখ করা হয়, তবে তিনি নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন না।
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রার্থীদের চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে সব মূল সনদসহ সশরীরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপস্থিত হতে হবে।
উপস্থিত হওয়ার সময় সব শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, যথাযথভাবে পূরণকৃত তিন কপি পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম, সিভিল সার্জন প্রদত্ত স্বাস্থ্যগত সনদ ও ডোপটেস্ট রিপোর্ট এবং কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোটার মূল সনদ সাথে রাখতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, কোনো প্রার্থী যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব নথিপত্র জমা দিতে বা পরিচিতি প্রতিপাদনে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন, তবে তার প্রাথমিক নির্বাচন বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তিনি আর নিয়োগের সুযোগ পাবেন না।
নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর পূর্ববর্তী কার্যকলাপ এবং তথ্যের সঠিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে অধিদপ্তর। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী যদি ভুল তথ্য প্রদান করেন বা কোনো তথ্য গোপন করেন, তবে কর্তৃপক্ষ যেকোনো পর্যায়ে তার ফলাফল বা নির্বাচন বাতিল করার অধিকার সংরক্ষণ করে।
এ ছাড়াও পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টে যদি প্রার্থীর অতীত কার্যকলাপ সন্তোষজনক না হয় কিংবা নাশকতা, সন্ত্রাসবাদ বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তিনি সরকারি চাকরির জন্য অনুপযুক্ত বিবেচিত হবেন। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, প্রকাশিত ফলাফলে কোনো ধরনের মুদ্রণজনিত ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধনের এখতিয়ারও কর্তৃপক্ষের রয়েছে।
বর্তমানে নির্বাচিত প্রার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (dpe.gov.bd) অথবা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (mopme.gov.bd) গিয়ে রোল নম্বর ইনপুট করে তাদের ফলাফল দেখতে পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি সফল প্রার্থীদের মোবাইল ফোনে টেলিটকের মাধ্যমে খুদে বার্তাও পাঠানো হয়েছে।
২০২৫ সালের ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা’ অনুসরণ করে উপজেলাভিত্তিক মেধাক্রম অনুযায়ী এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নিয়োগ পরবর্তী সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে দ্রুত পদায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ