Publish: Wednesday, 4 February, 2026, 10:20 PM

শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির জেরে সংকট আরও বাড়ল চট্টগ্রাম বন্দরে। আন্দোলন দমাতে কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে অনড় আন্দোলনকারীরা। এরই মধ্যে বিভিন্ন জেটি আর ডিপোতে প্রায় সাড়ে ৫২ হাজার কনটেইনার আটকা পড়েছে। বহির্নোঙরে খোলা পণ্য নিয়ে ভাসছে ১৪২টি জাহাজ।
শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে দীর্ঘায়িত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের স্থবিরতা। তিন দিন আট ঘণ্টা করে চলে কর্মসূচি। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি। দুপুরের পর ঘোষণা আসে, এ কর্মসূচি চলবে অনির্দিষ্টকাল।
শ্রমিকনেতারা বলছেন, সমস্যা সমাধানে কোনো অগ্রগতি নেই। দমননীতির কারণেই টানা আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘বন্দরের কিছু কর্মকর্তা, উপদেষ্টা সাখাওয়াত সাহেবসহ একটি সিন্ডিকেটে জড়িয়ে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এনসিটিটা বিদেশি কোম্পানিকে দিতে চায়। আমরা চট্টগ্রাম বন্দরের সব শ্রমিক-কর্মচারীরা এটার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি। এই বন্দরে কোনো বিদেশি জাহাজ আসা-যাওয়া করবে না। সব মুভমেন্ট আমরা বন্ধ করে দিয়েছি।’
অর্থনৈতিক ক্ষতি হলেও আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে দাবি করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। নেতাদের অভিযোগ, লুটপাটের বন্দোবস্ত করতেই এভাবে টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হচ্ছে।
স্কপের চট্টগ্রামের আহ্বায়ক এস কে খোদা তোতন বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে, নিজস্ব অপারেটরে, নিজস্ব শ্রমিক দিয়ে এই টার্মিনাল চলছে। সেখানে তড়িঘড়ি করে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিয়ে দিতে হবে, বিদেশি কোম্পানিকে দিতে হবে—এটার তো কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বন্দর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএমপি। সংস্থাটির উপকমিশনার আমীরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্দর এলাকায় নিরাপত্তার জন্য আমাদের সার্বিক সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করেছি। আমরা সব সময়ই সচেষ্ট আছি। এখানে কোনো বিশৃঙ্খলা আশা করি হবে না।’
মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বন্দরে প্রায় সাড়ে ৫৪ হাজার কনটেইনার আটকা পড়ে। এ ছাড়া বহির্নোঙরে খোলা পণ্য নিয়ে অবস্থান করছে ১৪২টি জাহাজ।
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ