ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার কাছে রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ও বিরোধী দল বিজেপির সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মূলত রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে রোববার (২৫ জানুয়ারি) কলকাতা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরের বেহালার সাখের বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই সংঘর্ষে অস্থায়ী মঞ্চে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে এবং রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। এদিকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ আর পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, সংঘর্ষের সময় বিজেপি কর্মী–সমর্থকেরা স্থানীয় এক তৃণমূল কাউন্সিলরের কার্যালয় ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি দুপুরে বিজেপির ইলেকশন কো-ইনচার্জ ও ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব যে অস্থায়ী মঞ্চে জনসভায় ভাষণ দেন সেটিতেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিজেপির দাবি, তৃণমূল সমর্থকেরাই ওই মঞ্চে আগুন লাগিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম বলছে, রোববার বিকেলে ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’য় ভাষণ দেন বিপ্লব দেব। তার বক্তব্য শেষ করে স্থান ত্যাগ করার পর তৃণমূল কর্মীরা সভাস্থলে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং মঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। একইসঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, সভার সময় এলাকায় বিজেপি কর্মীরা দলীয় পতাকা টাঙাচ্ছিলেন। এরপর বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পল্লীর কার্যালয় ভাঙচুর করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্সে লেখেন, ‘পরাজয়ের আশঙ্কায় তৃণমূল আবার কলকাতার রাস্তায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস নামিয়েছে। বেহালা পশ্চিমে পরিবর্তন সংকল্প সভায় বিপ্লব দেবের ভাষণের পরপরই তৃণমূল কর্মীরা সভাস্থলে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং তার চলে যাওয়ার পর ব্যস্ত বাজারের মাঝখানে মঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেয়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘তৃণমূল বাংলাকে সন্ত্রাসের মঞ্চে পরিণত করেছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার মরিয়া চেষ্টায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকজন গোটা রাজ্যে তাণ্ডব চালাচ্ছে এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।’
বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য বলেন, ‘আজ বেহালা পশ্চিমে বিপ্লব দেবের রাজনৈতিক সভা ছিল। এর অনুমতি দুই–তিন দিন আগেই নেয়া হয়েছিল। আমরা শান্তিপূর্ণ সভা চেয়েছিলাম। কিন্তু শুরু থেকেই তৃণমূল আমাদের পতাকা টাঙাতে বাধা দেয়। ইচ্ছাকৃতভাবে তারা আজ সহিংসতা উসকে দিয়েছে যাতে বিপ্লব দেবের ভাষণ ব্যাহত হয়।’
এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তৃণমূলের বিধায়ক দেবাশিস কুমার ও রত্না চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে যান এবং দলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি আমাদের ছেলেদের ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে গিয়েছিলাম। সেখানেই জানতে পারি, বিজেপি সমর্থকেরা খেলা ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। বিজেপি জানে না, আমাদের সঙ্গে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। তারা যত হামলা করবে, আমরা ততই শক্তিশালী হবো।’
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ