ভোলার লালমোহন উপজেলায় ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ধলীগৌর নগর ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও জামায়াতের কর্মী মো. ভুট্টো বলেন, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আমার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়ে মোবাইলে ভিডিও দেখে আলোচনা করছিলাম। এ সময় বিএনপির কর্মী ইলিয়াস হাওলাদার আমার সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু করে। কেন ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট নিয়ে আলোচনা করছি জানতে চেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে ইলিয়াস ও তার ছেলে সিহাব আমাকে মারধর করে।
তিনি আরও বলেন, আমার চিৎকারে বাজারের লোকজন চলে আসে। এতে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে পুলিশ প্রশাসন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপির কর্মী ইলিয়াসের ছেলে সিহাব বলেন, ভুট্টো আগে আওয়ামী লীগ করত। ২০১০ সালের উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর মঞ্চ ভেঙে নৃত্য করেছিল। পাঁচ আগস্টের পর সে জামায়াতে যোগ দেয়। বর্তমানে জামায়াতের নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে সে। আমার বাবা হাজির হাট বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। ভুট্টো বাজারে অস্থিতিশীল তৈরি করে বাজার লুটপাটের পাঁয়তারা করার চেষ্টা করছিল। এই বিষয়ে আমার বাবার সঙ্গে তার তর্কাতর্কি শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন, ভুট্টোর ছেলে এসে আমার বাবার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে। আমি সেখানে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে উভয়পক্ষের লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজির হাট বাজারের ঘটনা জানতে পারি। দ্রুত থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নেয়। কাউকে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে নৌবাহিনীর একটি টিম ও লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ সেখানে উপস্থিত হয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি সমঝোতা করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ