আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
আবুল কালাম আজাদকে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই সময় থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
গত বছর নিজের সাজা স্থগিতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী এই আবেদন করেন তিনি। একই বছরে ২২ অক্টোবর আবুল কালাম আজাদের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে সরকার।
তাকে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার আগে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি। তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, ৯ জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে ৭টিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তিনটিতে তার মৃত্যুদণ্ড, ৪টিতে কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কারণে সেসব অপরাধের বিষয়ে দণ্ডাদেশ দেয়নি ট্রাইব্যুনাল। অপর একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে না পারায় সেটি খারিজ করা হয়।
সেসময় আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘোষিত এ রায়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। তবে পলাতক থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আগেই পালিয়ে ভারত হয়ে তিনি পাকিস্তানে চলে যান বলে জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ