সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। দেশটির প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। এরই মধ্যে আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীদের বাধায় দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ইরান সরকার এই বিক্ষোভকে বিদেশি-সমর্থিত দাঙ্গা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষে ইরানের একাধিক স্থানে ৫০ নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইসফাহান প্রদেশেই ৩০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গভর্নর।
স্থানীয় সময় রোববার (১১ জানুয়ারি) বক্তব্য রাখার সময় আলী আহমাদি নামের ওই গভর্নর এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সোমবার নিহত কর্মীদের জন্য একটি জানাজা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আহমাদি নিশ্চিত করেছেন যে, সশস্ত্র দাঙ্গায় বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে দুই মাস বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাঙ্গায় ইসফাহানের বিভিন্ন এলাকায় ১০টি মসজিদে অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রাদেশিক শহীদ ফাউন্ডেশন বিভাগের মহাপরিচালক ইব্রাহিম বায়ানির মতে, পার্শ্ববর্তী ফার্স প্রদেশে দাঙ্গায় কমপক্ষে ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।
এছাড়াও পুলিশ স্পেশাল ইউনিট কমান্ডার জেনারেল মাসুদ মোদাক্ক রবিবার ঘোষণা করেন যে, দাঙ্গায় তার কমান্ডের আটজন সদস্য নিহত হয়েছেন।
সোমবার তাদের জানাজা শোভাযাত্রার পাশাপাশি দেশব্যাপী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে বিদেশি এজেন্টদের মদদপুষ্ট সশস্ত্র হামলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো হবে।
তবে ভয়াবহ এই দাঙ্গায় নিহত নিরাপত্তা বাহিনী বা বেসামরিক নাগরিকদের মোট সংখ্যা রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে, দেশজুড়ে চিকিৎসা ও সাহায্য কেন্দ্রগুলোতে বেশ কিছু হামলার খবর পাওয়া গেছে।
উত্তরাঞ্চলীয় গিলান প্রদেশে, একটি হামলায় একজন স্বেচ্ছাসেবক রেড ক্রিসেন্ট কর্মী নিহত হয়েছেন। দেশজুড়ে আরও পাঁচজন রেড ক্রিসেন্ট কর্মী আহত হয়েছেন।
ইরানি কর্মকর্তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ বৈধ এবং এর সমাধান করা হবে, তবে সহিংসতা এবং নাশকতা সহ্য করা হবে না।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাঙ্গাবাজরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়নের বিষয়ে জনসাধারণের উদ্বেগকে কাজে লাগিয়েছে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং তেল রফতানিকে লক্ষ্য করে একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।
নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সেল ভেঙে ফেলা এবং বিদেশি-সংযুক্ত কর্মীদের গ্রেফতারের ঘোষণা দিয়েছেন।
ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যে সহিংসতাকে উস্কে দিচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ-সহিংসতায় ইরানজুড়ে নিহতের সংখ্যা ৬৫ থেকে বেড়ে ১১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন টাইম সাময়িকীর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনের দমন-পীড়নে শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই মৃতের সংখ্যা দুই শতাধিক। সূত্র: প্রেসটিভি
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ