ইউক্রেনে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে খনি শ্রমিকদের বহনকারী একটি বাসে চালানো ওই ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। একই দিনে প্রসূতি হাসপাতাল ও আবাসিক ভবনেও হামলার খবর এসেছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলার মধ্যেই এমন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, খনি শ্রমিকদের বহনকারী ওই বাসে রাশিয়ার ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে। ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রী ডেনিস শমিহাল এ তথ্য জানিয়েছেন।
রোববার টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘আজ শত্রুপক্ষ দিনিপ্রো অঞ্চলে জ্বালানি খাতের কর্মীদের লক্ষ্য করে নিষ্ঠুর ও পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে’। তিনি আরও জানান, ‘এই সন্ত্রাসী হামলায় ১২ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন।’
পুলিশ জানায়, হামলাটি দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের তেরনিভকা শহরে ঘটে। রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জানালা ভাঙা ও আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি বাস সড়ক থেকে ছিটকে পড়েছে।
ইউক্রেনের জ্বালানি কোম্পানি ডিটিইকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহত ও আহত সবাই তাদের কর্মী ছিলেন। তারা কাজের শিফট শেষ করে বাসে করে ফিরছিলেন।
এর আগে রোববারই আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে একটি প্রসূতি হাসপাতাল ও একটি আবাসিক ভবনে রাশিয়ার হামলায় অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন।
এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল যখন কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রচণ্ড শীতের কারণে ইউক্রেনজুড়ে দুর্ভোগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কিয়েভসহ অন্যান্য শহরে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন।
এরপর গত শুক্রবার ক্রেমলিনও নিশ্চিত করে যে রোববার পর্যন্ত কিয়েভে হামলা স্থগিত রাখতে তারা সম্মত হয়েছে। তবে এর বাইরে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে গত মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা করে। চলতি মাসেই দ্বিতীয় দফা বৈঠকের কথা রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রোববার জানান, দ্বিতীয় দফার আলোচনা আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে। যদিও ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত সমঝোতার নীতিগত বিষয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন সম্মতি জানিয়েছে, তবে চুক্তির কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
মূল বিরোধের জায়গা হলো— রাশিয়া কি ইউক্রেনের দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে, বিশেষ করে দেশটির পূর্বাঞ্চলের শিল্পাঞ্চল ডনবাস থেকে, নাকি এখনও দখল না করা এলাকাগুলোর ওপরও তারা দাবি আদায় করতে চাইবে।
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ