Publish: Friday, 2 January, 2026, 12:31 AM

এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা লাভজনক পদে কেন থাকতে পারবেন না এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা ‘এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ কেন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর মাউশির মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এক রিট আবেদনে শুনানি পর বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমন ও বিচারপতি দিহিদার মাসুদ কবির হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি এ রুল জারি করেন।
গত ৭ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ‘এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন প্রবীণ আইনজীবী জমিরউদ্দিন সরকার। মুহাম্মদ মাসুদ হাসানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ১০ জন সাংবাদিক-শিক্ষকদের পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দাখিল করেন আইনজীবী নাইম সরদার। হাইকোর্টের জারি করা রুলের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আইনজীবী কাজী রহমান মানিক।
গত ৭ ডিসেম্বর এমপিওভুক্তির নতুন জনবল কাঠামো ও নীতিমালা-২০২৫ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালায় বলা হয়, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না। এর মধ্যে সাংবাদিকতা বা আইন পেশাও আছে। এটি করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিল করা যাবে। এই বিধান সন্নিবেশিত করায় বিপাকে পড়েন বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক।
এরপর ‘মফস্বলে কাজ করা সাড়ে তিন হাজার সাংবাদিক বিপাকে’ শিরোনামে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রতিবেদন ছাপে একটি জাতীয় দৈনিক। এরপর দেশজুড়ে শিক্ষকসমাজের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি মফস্বল এলাকায় খণ্ডকালীন সাংবাদিকতা করেন, এমন সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক-সাংবাদিকের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেক জেলা ও উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত।
অনেকে উপজেলা/জেলা পর্যায়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা, অনলাইন বা টিভি চ্যানেলের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে থাকেন। তাদের মতে, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব শেষ করে সমাজসেবামূলক বা সম্মানীর বিনিময়ে কোনো কাজে যুক্ত থাকা অন্যায় নয়।
ডার্ক টু হোপ/এসএইচ